Recents in Beach

মায়ের পছন্দ"সরজিৎ ঘোষের লেখা ছোট গল্প কন্ঠে কেয়া বিশ্বাস।

 

মায়ের পছন্দ"সরজিৎ ঘোষের লেখা ছোট গল্প কন্ঠে কেয়া বিশ্বাস।  
মায়ের পছন্দ"সরজিৎ ঘোষের লেখা ছোট গল্প কন্ঠে কেয়া বিশ্বাস। 

 "মায়ের পছন্দ"সরজিৎ ঘোষের লেখা ছোট গল্প কন্ঠে কেয়া বিশ্বাস।
 "পছন্দ"
 লেখক: সরজিৎ ঘোষ
 কন্ঠে : কেয়া বিশ্বাস
ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়েছেন অমৃতা দেবী। খুব ইচ্ছে সামনের ফাল্গুনে ছেলের বিয়ে দেবেন। অমৃতা দেবীর একটি মাত্রই ছেলে। ছেলে কেন্দ্রিয় সরকারী চাকুরে। আসামে পোস্টিং। বিয়ের কথা ছেলেকে বললেই ছেলে বলে, আগে তো পাত্রী দেখো।তারপর না হয় বিয়ের কথা ভাবা যাবে! অমৃতা দেবীও মাঝে মাঝে ছেলেকে বলেন, এমন ছেলে একটা প্রেমও তুই করতে পারলি না। ছেলেও তেমনি বলে, সবার দ্বারা সব কিছু হয়? যখন প্রেম করার সময় ছিল তখন তুমি বলতে কেরিয়ারটা আগে। কেরিয়ার তৈরি করব আবার প্রেমও করব অতো ট্যালেন্ট আমার নেই। তবে তোমার পছন্দ অনুযায়ী একটা মেয়ে দেখো। আশাকরি আমার পছন্দ হবেই। ছেলের কথা মতোই অমৃতা দেবী নিজেই এসেছেন পাত্রী দেখতে।পাত্রী বেশ সুন্দরী। অমৃতা দেবী মেয়েটির শুধু মাত্র নামটাই জিজ্ঞেস করেছেন।ঘটকের মারফত কিছুটা শুনে ছিলেন বলেই আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি। মেয়েটির মা এবার কথা বলতে শুরু করলেন।বললেন, আমার মেয়েকে দেখে কেউ অপছন্দ করে না। এর আগে আর তিন চার জায়গা থেকে দেখতে এসেছিল। আমাদের পছন্দ হয় নি।আমার মেয়ে এমনিতেই সুন্দরী। যে কোনো ভালো ছেলে আমার মেয়েকে পছন্দ করবেই। সরকারি চাকরিওয়ালা যে কোনো ছেলে এক কথায় বিয়ে করতে চায়। তাছাড়া ইউটিউব দেখে এত সুন্দর সুন্দর রান্না করে যে বাড়িতে বৌ হয়ে যাবে আমার মেয়েকে সত্যিই তারা ভাগ্য করে বৌ হিসেবে পাবে। যখন শুনলাম আপনার ছেলে সেন্ট্রাল গভমেন্টের ভালো পোস্টে চাকরি করে তখন ভাবলাম আমার মেয়ে আপনার ছেলের যোগ্য হতে পারে। অমৃতা দেবী মন দিয়ে কথা গুলো শুনছিলেন। খানিকক্ষণ চুপ থাকার পর অমৃতা দেবী বললেন আপনার মেয়ের মার্কসীট গুলো দেখতে চাই। মার্কসীট দেখে কী করবেন? আগে দেখি তারপর না হয় বলি! মার্কসীট গুলো দেখার পর অমৃতা দেবী বলেন, যা রেজাল্ট দেখছি এ তো কোনো কাজেই লাগবে না। কোনো রকমে পাশ করা। এই রেজাল্ট নিয়ে ভালো কোনো চাকরি তো পাবে না। আমার মেয়ের তো চাকরি করার কোনো ইচ্ছেই নেই। সুন্দরী মেয়েদের রোজগার করতে হয় না। এমন দেখে মেয়ের বিয়ে দেব আমার মেয়ে পায়ের ওপর পা তুলে বসে খাবে। কথা গুলো বলে হেসে ফেললেন। কিন্তু আমার ছেলের এবং আমার দুজনেরই ইচ্ছে বৌ হয়ে যে আসবে সে যেন চাকরি করার যোগ্য হয়। একটা নিজের পরিচয় থাকাটা খুব জরুরী। সুন্দরী হলে পড়াশোনাটা কেউ অতো দেখে না। সুন্দরী হওয়াটা তো আর যোগ্যতা নয়। ছেলে হোক বা মেয়ে প্রত্যেকের একটা নিজের পরিচয় হবে এমনটাই তো সবাই আশা করে। অন্যের যোগ্য হয়ে ওঠার চেয়ে নিজের যোগ্যতা থাকাটা বেশি প্রয়োজন আজকের দিনে। সৌন্দর্য্য তো চিরকাল থাকে না। রান্না করতে পারাটা বড়ো ব্যাপার নয়। আমার ছেলেও এখন্ রান্না করতে পারে। তাছাড়া বাড়িতে থেকেও যে কোনো সময় রান্না শিখে নেওয়া যেতে পারে। আর রত্না দেবী আপনি রাগ করবেন না। পছন্দটা সকলের এক হয় না। তাই রূপে সুন্দর হয়ে ওঠার চেয়ে গুণে সুন্দর হয়ে ওঠাটাই আমাদের পছন্দ। তাই আপনাদের পছন্দের সাথে আমাদের পছন্দ মেলাতে না পারার জন্য দুঃখিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ